বিশেষ প্রতিনিধি | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) উদ্যোগে বগুড়ায় ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বগুড়ায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর অডিটরিয়ামে “ব্যাংক–এমএফআই লিংকেজ আঞ্চলিক সেমিনার” অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাট জেলায় কর্মরত এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত ৬৮টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এমআরএ’র কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঋণ সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে ব্যাংক–এমএফআই লিংকেজের গুরুত্ব, প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমআরএ’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ের পরিচালক সরদার আল এমরান। স্বাগত বক্তব্য দেন এমআরএ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ নূরে আলম মেহেদী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমআরএ’র পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন এমআরএ’র পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।
স্বাগত বক্তব্যে মোঃ নূরে আলম মেহেদী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে ব্যাংক–এমএফআই লিংকেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আঞ্চলিক সেমিনার ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর লিংকেজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও ত্বরান্বিত হবে। এমআরএ এমএফ–সিআইবি এবং ক্রেডিট স্কোরিং বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যেখানে ব্যাংক ও এমএফআই উভয়ই দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। এ সময় আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য তিনি ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরদার আল এমরান বলেন, টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিঋণ ও এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে এমএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে সমগ্র ক্ষুদ্রঋণ খাতে ৪ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিলের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের সঞ্চয় ৭৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, যা মোট তহবিলের প্রায় ৪০ শতাংশ। এছাড়া নিজস্ব মূলধন তহবিল ৬৭ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা, যা মোট তহবিলের ৩৪ শতাংশ।
তিনি জানান, ব্যাংক থেকে সংগৃহীত তহবিলের পরিমাণ ২২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা, যা মোট তহবিলের প্রায় ১২ শতাংশ এবং এটি তৃতীয় প্রধান উৎস। এছাড়া পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে ৭ শতাংশ এবং সরকার ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকেও তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী এমএফআই প্রতিনিধিরা ব্যাংক ঋণ গ্রহণের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় ওসাকা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এমএফআইগুলোকে ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে গেলে প্রায় ১৩ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এতে করে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং এমএফআইগুলোর ঋণ সক্ষমতা কমে যায়।
টিএমএসএস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অশোকা ফেলো অধ্যাপিকা ড. হোসেন-আরা বেগম বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতে ছোট ও মাঝারি এমএফআইগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্প সুদে বিশেষ ঋণ প্যাকেজ চালু করা প্রয়োজন, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসইভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে।।
গাকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. খন্দকার আলমগীর হোসেন বলেন, ক্ষুদ্রঋণের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করতে এমআরএ’র ব্যাংক–এমএফআই লিংকেজ প্রোগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে বক্তারা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাংক ও এমএফআইয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সেবার পরিসর সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ খাত ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন তারা।
Posted ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Shanto Banik
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।